চলন্ত ট্রেনে ছিন তাইকারীর হাতে প্রাণ গেল মা-মেয়ের

133

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা রোডে চলন্ত ট্রেনের ভেতর মা-মেয়েকে হ ত্যা করেছে ছিন তাইকারীরা। শনিবার (৩ আগস্ট) মথুরা রোড স্টেশনের কাছ থেকে রেললাইনে মা-মেয়ের মৃ ত দেহ উদ্ধার করে রেল পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলার ঘটনা নয়, ছিন তাইকারীদের তাড়া করতে গিয়ে অন্য ট্রেনের ধাক্কায় তাদের মৃ ত্যু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনিতে থাকতেন মীনা দেবী ও তার মেয়ে মনীষা কুমারী। মনীষাকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানোর উদ্দেেশ্যে গতকাল ট্রেনে করে রাজস্থানের কোটাতে যাচ্ছিলেন তিনি। উত্তর প্রদেশের মথুরার কাছে ছিন তাইকারীদের কবলে পড়েন মা-মেয়ে।

ছিন তাইকারীরা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে গেলে বাধা দেন মা। ছিন তাইকারীরা তাকে ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। মাকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন মেয়ে মনীষাও। এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

মৃ ত ছেলেকে আগলে বদ্ধ ঘরে মা….

ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয় প্রতিবেশীরা। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখে, ছোট্ট একটি ঘরে এক বৃদ্ধা মা তার ছেলেকে নিয়ে খাটের উপর পাশাপাশি শুয়ে আছেন। কিন্তু ছেলে জীবিত নয়, মৃ ত।

পুলিশ ওই মা আর তার ছেলেকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়। এম আর বাঙুর হাসপাতালে ওই যুবককে মৃ ত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ আগস্ট) রাতে নেতাজিনগর থানার রামগড়ে এ ঘটনা ঘটে। পুুলিশ জানায়, মৃ ত যু্বকের নাম সোমনাথ কুণ্ডু (৩৯)। তার মায়ের নাম উত্তমা কুণ্ডু।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছর তিনেক আগে ওই এলাকায় একটি বাড়ির একতলায় ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় ওঠেন বিধবা উত্তমা কুণ্ডু। সোমনাথ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন।

পুলিশ বলছে, অসুস্থতার কারণে ওই বৃদ্ধাও প্রায় শয্যাশায়ী। তার মানসিক সমস্যা ছিল। সম্প্রতি সোমনাথও জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কেন তিনি এভাবে ছেলেকে আগলে রয়েছেন, তদন্তকারী অফিসাররা উত্তমাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অসংলগ্ন কথা বলেন। কখনও বলছেন, ছেলে অসুস্থ। কখনও বলছেন, ছেলের তেমন কিছু হয়নি, শুধু পেটটা ফুলে গিয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানায়, খুব মিশুক ছিলেন সোমনাথ। দিন দশেক আগে তাকে শেষ দেখেছিলেন তারা। বাড়ির মালিক সাবিত্রী মাইতি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা ওই ঘর থেকে হাল্কা দুর্গন্ধ পান। কিন্তু তেমন গুরুত্ব দেননি। বেশ কয়েক দিন আগেই সোমনাথের মৃ ত্যু হয়েছে পুলিশের ধারণা।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা