গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয় যে সব খাবার খেলে

206

যেসব খাবার খেলে দূর হয় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা- পেটে গ্যাস হয়নি বা হয় না, এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে মেয়েরা এই রোগে বেশি আ’ক্রা’ন্ত হয়। কিন্তু পুরুষ-নারী যারই হোক না কেন, এটাকে অবহেলা করলে বা চিকিৎসা না করলে তা শরীরের জন্য খারাপ। কারণ গ্যাস এসিডিটি থেকে অনেক রোগের উৎপত্তি পারে।

আমাদের খাদ্য ও পানীয় খাওয়ার অভ্যাসের ফলেই পেটে গ্যাস ও হজমের সমস্যা হয়। এর থেকে জন্ম হয় গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা। তার থেকে শুরু হয় বুকে পেটে ব্যথা, মাথা ধরা, গা বমি ভাব ইত্যাদি। অনেকের আবার গ্যাসের সমস্যা থেকে গ্যাস্ট্রিকও হয়ে যেতে পারে।

সব সময় গ্যাসের ওষুধ খেয়ে খাবার খেলে কয়েক বছর পর আর কোনো ওষুধই শরীরে গিয়ে কাজ করতে পারবে না। তাই ওষুধ খেয়ে গ্যাস ঠিক না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গ্যাসের সমস্যা দূর করে নেওয়াটাই সব চেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া কিছু ব্যবহার করলে পাওয়া যাবে উপকার।

আদা- গ্যাসের নিয়মিত সমস্যা থাকলে সমপরিমাণ আদার রস ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার খেতে হবে। গ্যাসের সমস্যা কমানোর সঙ্গে সঙ্গে এই মিশ্রণ সর্দি কাশি কমাতে ও হজমে সাহায্য করে।

জিরা- শুকনো ভাজা জিরা ঠান্ডা জলের সঙ্গে খেলে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বেকিং সোডা- একটি গোটা লেবুর রসে এক টেবিলচামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে রোজ সকালে খান। দেখবেন হজমের সমস্যা দূর হয়েছে।

রসুন ও কিসমিস- রোজ এক কোয়া রসুনের সঙ্গে চিবিয়ে খেয়ে নিন ৪টি কিসমিস। এতে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

গোলমরিচ- গরম দুধে কিছুটা গোল মরিচ ফেলে দিন। নিয়মিত অভ্যাস করুন গোল মরিচ মেশানো দুধ খাওয়া। গ্যাসের সমস্যা কমানোর জন্য এর জুড়ি নেই।

দারুচিনি- প্রথমে পানি দারুচিনি ফুটিয়ে নিন। তারপর সেই পানি ঠান্ডা করে খেয়ে নিন। রোজ সকালে খালি পেটে এই পানি খেলে হজমে সুবিধা হয়।

কমলালেবুর রস ও সামুদ্রিক লবণ- গ্যাসের সমস্যায় যদি পেটব্যাথা করে তাহলে তার অত্যতম দাওয়াই কমলালেবুর রস ও রক সল্ট। একটি গোটা কমলালেবুর রসে সামান্য ভাজা জিরা ও সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে খেয়ে নিন। সঙ্গে সঙ্গে আরাম পাবেন।

লেবুর রস ও আদা- এক চামচ লেবুর রসের সঙ্গে আদা ও সামান্য রক সল্ট মিশিয়ে নিয়মিত খান। হজম ক্ষমতা বাড়ায় এই মিশ্রণ।

শাক সবজি- সাময়িক গ্যাসের সমস্যা হলে কিছুদিন হালকা খাবার খান। খাবারের তালিকায় বেশি করে সবজি রাখুন।

আপনি জানেন কি ‘খুঁতখুঁতে স্বভাব শুচিবায়ু’ এক ধরনের মানসিক রোগ…

বারবার হাত ধোওয়া, ঘনঘন ঘর পরিষ্কার এবং আলমারি গোছানো, ইত্যাদি উদ্বেগজনিত ব্যাধির লক্ষণ হতে পারে, যাকে চিকিৎসার ভাষায় বলা হয় অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি। ওসিডি এক ধরনের মানসিক সমস্যা। সাধারণত শুচিবায়ু বলা হয়ে থাকে। স্বভাবসুলভ ভাবে মানসিক সমস্যার নাম শুনেই নাক সিটকানোর কিছু নেই।

ওসিডিতে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তির মধ্যে এক ধরনের অবসেশন বা আচ্ছন্নতা কাজ করে। সে বুঝতে পারে না, সে যা করছে তা কেন করছে। শুধু জানে যে তাকে করতে হবে। একটা ঘোরের মধ্যে সে তার কাজকর্ম পরিচালনা করে।

এই ব্যাধিতে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিরা যুক্তিহীন অবসেশন এবং কম্পালসনের এক চক্রের মধ্যে আটকে পড়েন। এর ফলে অবঞ্ছিত চিন্তার সৃষ্টি হয় যা সেই ব্যক্তির মানসিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। ওসিডি-র লক্ষণ গুলি ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয়, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থা নিলে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত হাত ধোওয়া- হাত পরিষ্কার রাখা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। বিশেষত, এই মহা’মা’রির সময় বারবার হাত ধোওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষেই ভাল। এটি ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া সং’ক্র’ম’ণের ঝুঁ’কি কমায়।

তবে জী’বাণু এবং ব্যাকটেরিয়ার ভয়ে অতিরিক্ত হাত ধোওয়া ওসিডি’র লক্ষণ হতে পারে। আপনার যদি দিনে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হাত ধোওয়ার বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের অভ্যাস থাকে, তবে তা উদ্বেগজনক।

সবকিছু পুনরায় চেক করা- দরজা, গ্যাসের নব এবং অন্য সবকিছু বারবার চেক করা এই ব্যাধির লক্ষণ হতে পারে। ওসিডি-তে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর সবকিছু পুনরায় চেক করা একটি সাধারণ আচরণ।

নিউমেরিকাল প্যাটার্ন অনুযায়ী চলা- এই ব্যক্তিরা কিছু নিউমেরিকাল প্যাটার্ন অনুযায়ী ক্রিয়াকলাপ সম্পাদন করে এবং বেশিরভাগ সময় তারা এটি অনুসরণ করে, যেমন – সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় গুনতে থাকা বা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ক্রিয়াকলাপ করা। এই আচরণগুলো বেশির ভাগই কু’সংস্কার ভিত্তিক। তারা আশঙ্কা করে যে, তারা যদি এই কাজটি না করে তবে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সবকিছু করে- ওসিডি তে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিরা একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সবকিছু করে, যেমন – ডেস্কের বামদিকে ফোন এবং ডানদিকে পানির বোতল রাখা, ইত্যাদি। তারা তাদের চারপাশের জিনিসপত্রের স্থান নির্ধারণ এবং সেগুলির পরিবর্তনের বিষয়ে তারা খুব খুঁতখুঁতে।

পারফেকশনিস্ট- ওসিডি তে আ’ক্রা’ন্ত বেশির ভাগ মানুষই সব কিছুতে নিখুঁত থাকতে চান। তারা তাদের লুক বা শরীরের কোনও নির্দিষ্ট অংশ সম্পর্কে সর্বাধিক সচেতন হন

কোনো অ’সুস্থতাই ব্যক্তির সাহস ও সুস্থ হয়ে ওঠার বাসনার চেয়ে কখনোই বড় হতে পারে না। বলা হয়, নিজেকে আর নিজের শত্রুকে চেনা থাকলে একটিও না হেরে একশটি যুদ্ধ জেতা যায়। যুদ্ধটা যখন নিজের সাথে, তখন নিশ্চয় এই যুদ্ধে জয় আওতার বাইরে নয়। শরীরের সাথে সমান গুরুত্ব পাক প্রতিটি মানুষের মন। শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, সামগ্রিক সুস্থ্যতা প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করুক।