কাশ্মীরে গিয়ে কথা বলে মিটিয়ে আসব: মমতা

108

কাশ্মীরে গিয়ে কথা বলে মিটিয়ে- ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সরাসরি বিরোধিতা করছেন না, কিন্তু যেভাবে তা করা হয়েছে, সেনিয়ে আপত্তি রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হাজরা মোড়ে প্রাক স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তা স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সরকার চাইলেন, তাঁরা কাশ্মীরে যেতে পারতেন বলেও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মমতা বলেন, ‘এটা গণতন্ত্র নয়। ৩৭০ অনুচ্ছেদ ঠিক-বেঠিক বলব না। তবে পদ্ধতিতে ভুল আছে। ব ন্দু ক দিয়ে করা হয়েছে। অনৈতিক পদ্ধতিতে করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এটা অসাংবিধানিক। তিনজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কোথায় আছেন? দেশের মানুষ জানে না। তাঁরা কোথায়? আলোচনা করে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা যেত বলেও অভিমত মমতার। তাঁর কথায়,’আলোচনা করে শান্তির কাজ হয়।’ এর পাশাপাশি এক সময়ের অশান্ত জঙ্গল মহলকে কীভাবে শান্তির রাস্তায় ফিরিয়ে এনেছেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বলেন, ‘জঙ্গল মহল শান্ত করে দিইনি! কটা লা শ ফেলতে হয়েছে, কটা ব ন্দু ক লেগেছে, কটা খু ন করতে হয়েছে! ২০১১ সালের আগে ৬০০-৭০০ জন মা রা যেত। গত ৮ বছরে সেখানে একটাও খু ন হয়নি।’ দরকারে তিনি কাশ্মীরে যেতে রাজি ছিলেন বলেও জানান মমতা। তাঁর কথায়,’আমি গিয়ে কাশ্মীর থেকে ঘুরে আসব।

কথা বলে মিটিয়ে আসব। শান্তিপূর্ণ ভাবে করা যেত। সেটা না করে গায়ের জোরে করা হল।’ বিরোধীদের অন্ধকারে রেখে অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি মমতার। বলেন,’কোনও বিল স্ক্রুটিনি হইনি। সাপ না কেউটে আছে দেখতে হবে।

কাগজ দেবেন, না পড়ে সই করে দেব। অন্ধকারে রেখে করে দিলেন।’ এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম জি-নিউজ ইন্ডিয়া। প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মমতা বলেছিলেন, ‘সব দলের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।

কথা বলা উচিত ছিল স্থানীয়দের সঙ্গে। দরকারে কাশ্মীরে যেতাম। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতাম। স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা যেত। বিলের বিষয় নিয়ে আপত্তি নেই।

সুত্র-বি ডি ২৪ লাইভ।

কাশ্মীর পরিস্থিতি জানাতে এবার রাশিয়া ফোন পাকিস্তানের

কাশ্মীর থেকে স্পেশাল স্টেটাস তুলে নেওয়ার পরই নানাভাবে সরব হয়েছে পাকিস্তান। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছে তারা। এবার রাশিয়াকে সার্বিক পরিস্থিতি জানাল পাকিস্তান।

রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে কথা বললেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। জম্মু-কাশ্মীরের আর্টিকল ৩৭০ তুলে নেওয়া সহ উপত্যকায় সেনা বাড়ানো এবং কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের গৃহবন্দি করা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে কথা বলেছেন কুরেশি।

কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এদিন কুরেশি বলেন, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এমন সিদ্ধান্ত উপমহাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। তাছাড়া ভারতের এমন একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশিয়া কাশ্মীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সের্গেই ল্যাভরভ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান চায় রাশিয়া।

কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল ফুলের মালা নিয়ে বসে নেই। যে কোনও একজন সদস্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটা নিয়ে কোনও ধোঁয়াশা থাকা উচিত নয়। মূর্খের স্বর্গে বাস করা উচিত নয়।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন যে, “পাকিস্তান ও কাশ্মীরের মানুষদের এই বিষয়ে অবগত হতে হবে যে না কেউ ওদের জন্য অপেক্ষা করছে অথবা তাঁদের আমন্ত্রণের অপেক্ষা করছে।” কাশ্মীরের স্পেশাল স্ট্যাটাস মুছে দেওয়ার ঠিক সাতদিন পর এই ঘটনা ঘটছে। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

তবে পাকিস্তানের এইসব দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলেও মেলেনি সমর্থন। চিন থেকে রাশিয়া সকলেই সংযমি হতে বলেছে পাকিস্তানকে। তাই পাকিস্তান বুঝতে পেরেছে যে ফের কাশ্মীর ইস্যুতে হুঙ্কার দিলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পাঁচ স্থায়ী সদস্য (পি৫) ও মুসলিম দেশগুলি থেকে কোন বিষয়েই সমর্থন পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে।