করোনায় দেশে ১১তম পুলিশ সদস্যের ইন্তেকাল !

61

পুলিশ সদস্য ইন্তেকাল – সারাদেশে করোনা’ভা’ইরাস আরও এক পুলিশ সদস্যের প্রাণ কে’ড়ে নিয়েছে। এই নিয়ে করোনা যু’দ্ধে ১১ তম পুলিশ সদস্যের মৃ’ত্যু হলো। মা’রা যাওয়া এ পুলিশ সদস্য হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নায়েক মোহাম্মদ আল মামুন-রশিদ (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

আজ ২১ মে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নায়েক মামুনকে বাঁ’চা’নো’র জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হলেও তাকে ধরে রাখা যায়নি।

সোহেল রানা বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা একটি বিরল সুযোগ। এই সুযোগটি বাংলাদেশ পুলিশের দুই লাখ দেশপ্রেমী সদস্য মনে-প্রাণে সর্বান্তকরণে কাজে লাগাচ্ছে। দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জীবন বাজি রেখে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা।

ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ (৩ হাজার ২৩৫) সদস্য করোনা’ভা’ইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন গর্বিত দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্য আ’ত্ম’ত্যা’গ করেছেন।

তিনি বলেন, এই তালিকায় ১১তম অর্থাৎ সর্বশেষ আত্মদানকারী পুলিশ সদস্য হচ্ছেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের নায়েক মো. আল মামুনুর রশিদ। তিনি ডিএমপির পরিবহন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানায়। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে গেছেন।

ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি, বাড়িতে ঈদ করতেই হবে

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে লকডাউনে ফেরি সার্ভিস বন্ধের সাথে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠলেও এরই মাঝে অবৈধ ট্রলার ও স্পিডবোটে চড়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন যাত্রীরা।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘাটে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় ট্রলারগুলো পুরাতন মাওয়া ঘাট থেকে ছেড়ে এসে ২ দফা চরে নেমে ভিড়ছে। পদ্মা নদী পাড়ি দিতে যাত্রী প্রতি খরচ হচ্ছে ৫-৬ শ টাকা। এদিকে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করায় ২টি ট্রলার ও ১টি স্পিডবোট আটক করেছে নৌপুলিশ।

সরেজমিনে জানা যায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের ফেরিগুলোতে উভয়মুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থামাতে ৩ দিন ধরে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। শিমুলিয়া ঘাট থেকে অনেক যাত্রীকে ফেরৎ পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে কোনো ধরনের পরিবহন ও যাত্রী পার হতে দেয়নি পুলিশ।

এ সুযোগে দুপুরের দিক থেকে শিমুলিয়ায় স্থান পরিবর্তন করে পুরাতন মাওয়া ঘাট থেকে অবৈধ ট্রলার ছেড়ে আসা শুরু করে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। প্রতিটি ট্রলারেই ছিল উপচে পড়া যাত্রী।

ট্রলারগুলো মাওয়া থেকে ছেড়ে জাজিরা, শিবচরের চরগুলো ব্যবহার করে ২ দফা ট্রলার পরিবর্তন করে পদ্মা সেতুর কাছে শিবচর ও জাজিরার সীমানায় বুড়ার খেয়া ঘাট এলাকাগুলোতে যাত্রী নামায়। ট্রলারে যাত্রী প্রতি ৫ থেকে ৬শ টাকা আদায় করা হয়। সাথে যোগ হয়েছে স্পিডবোটও।

স্পিডবোটে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। যাত্রীরা পদ্মা পার হয়ে বুড়ার খেয়া ঘাট থেকে পরে ঈজিবাইক মোটরসাইকেলে চড়ে বরিশাল, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ৫/৬ গুণ ভাড়া খরচ করে ছুটছে।

খুলনাগামী ট্রলার যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, সকাল সাতটায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে অনেক কষ্ট করে চর দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে আরেক চর থেকে ট্রলারে উঠে ৭০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বিকেল তিনটায় পদ্মা পার হয়েছি।

স্পিডবোট যাত্রী রহমান বলেন, গাজীপুর থেকে এসেছি বরিশাল যাবো। আসার পথে সিএনজি ও ঈজিবাইকে চড়ে প্রায় ৩ গুণ ভাড়া দিয়ে মাওয়া ঘাটে আসি। সেখানের এক চর থেকে স্পিডবোটে দেড় শ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা দিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকার চর বুড়ার ঘাটে এসে মোটরসাইকেলে ১২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বরিশাল যাচ্ছি।

কাঁঠালবাড়ি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট বন্ধ থাকায় মাওয়া ঘাট এলাকার চর থেকে কিছু অবৈধ ট্রলার ও স্পিডবোট যাত্রী বোঝাই করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের দূরবর্তী বুড়ার খেয়া ঘাট এলাকায় ভিড় ছিল। অভিযান চালিয়ে আমরা একজন স্পিডবোট চালক ও দুজন ট্রলার চালককে আটক করেছি। এর আগে যাত্রী বোঝাই একটি বাল্ককেট আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।