এবার কাশ্মীরের পাশে দাঁড়ালো এরদোগান

170

কাশ্মীরের পাশে দাঁড়ালো এরদোগান- জম্মু কাশ্মীরের মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করায় প্রতিবাদ জানিয়ে মালয়েশিয়ার পর এবার কাশ্মীরের পাশে দাঁড়ালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

গতকাল সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে এক টেলিফোন বার্তায় কাশ্মীরের ব্যাপারে এরদোগান নিজের সমর্থনের কথা বলেন। ভারতের এই সিদ্ধান্তে ইসলামাবাদ তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করবে।

এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে পাক সরকার। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন উর্দূর। খবরে বলা হয়, গতকাল সোমবার ভারতের রাজ্যসভার অধিবেশনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের পরই তুর্কি প্রেসিডেন্টকে ফোন করেন ইমরান খান।

এসময় প্রেসিডেন্ট এরদোগান কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এরদোগানকে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের এক তরফা সিদ্ধান্তের ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হবে।

এমন সিদ্ধান্ত উপমহাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলারর জন্য মা রা ত্ম ক হুমকি সৃষ্টি করবে। সেজন্য পাকিস্তান কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ার সিদ্বান্ত নিয়েছে। একইদিনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে টেলিফোন করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির ইমরান খানকে বলেন, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ অধিবেশনের ফাঁকে তিনি ইমরান খানের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান করে।

৩৭০ ধারা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বীকৃত বিষয়। বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের এক তরফা সিদ্ধান্ত ওই রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল করতে পারে না। কাশ্মীরি জনগণ ভারতের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লড়াইয়ে কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক,কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান। সুত্র- একুশে টি ভি।

মেহবুবা-আব্দুল্লাহ গ্রে ফ তার, থমথমে কাশ্মীর

অবশেষে গ্রে ফ তার করা হলো জম্মু-কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাকে। সেই সঙ্গে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে ওমর আব্দুল্লাহকে। সোমবার সন্ধ্যায় তাদেরকে গ্রে ফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়, জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর ফলে সন্ধ্যার পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে সেখানে।

এছাড়া কেপিসি’র (kashmirs peoples conference) দুই নেতা সাজ্জাদ লোন এবং ইমরান আনসারিকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এর আগে রোববার মধ্যরাত থেকে তাদেরকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

খবরে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের বাড়ি থেকে মেহবুবা মুফতিকে সরিয়ে নিকটবর্তী সরকারি গেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলে এদিনই বিবৃতি দেন ওমর আবদুল্লাহ। এর পরই তাকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়।

তবে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা সোমবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। এমনকি এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনও বিবৃতি দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এর আগে তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও গতকাল সোমবার জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ধারা ৩৭০ বাতিল করে ভারতের বিজেপি সরকার।

এ নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন মেহবুবা মুফতি। ‘আ গু ন নিয়ে খেলবেন না,’ বলে কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত সপ্তাহে আচমকা অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে দিয়ে সমস্ত তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের কাশ্মীর ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়।

পাশাপাশি নিরাপত্তাও ব্যাপক জোরদার করা হয় গোটা উপত্যকায়। দফায় দফায় আধা সামরিক বাহিনী পাঠানো হয় সেখানে। বন্ধ করে দেয়া হয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ইন্টারনেট সেবা। এই অবস্থায় গত রোববার বিকেলে সর্বদলীয় বৈঠক করেন মেহবুবা-ওমররা। আর রোববার রাতেই গৃহবন্দি করা হয় তাদের।

এরপর সোমবার সকালে রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বিলোপের কথা ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যা একেবারেই ভারতের গণতান্ত্রিক এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার পরিপন্থী বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস, তৃণমূলসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীরা। তার মধ্যেই মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাকে গ্রে ফ তার করা হলো। সেইসঙ্গে এদিন উপত্যকায় আরও আট হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠানো হয়। বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও ইন্টারনেট পরিসেবা।

সূত্র-আনন্দবাজার।