এখন বাবা-মা থেকে আলাদা সংসার করতে চাইলে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারবে স্বামী

130

আলাদা হতে চাইলে মামলা করতে পারবে স্বামী– আমাদের চারদিকে প্রায়ই আমরা দেখতে পারি যে স্ত্রীর চাপে বাবা-মা থেকে ছেলে আলাদা হয়ে সংসার করে। বাবা-মায়ের থেকে ছেলেকে আলাদা করতে চাইলে স্ত্রীকে ডি’ভো’র্স দিতে পারবেন স্বামী। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হিন্দু বিবাহ আইনে এই বিধান জারি করা হয়। 

বৃহস্পতিবার একটি ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জাস্টিস অনিল দাভে এবং জাস্টিস এল নাগেশ্বর বলেন, বৃদ্ধ এবং ছেলের ওপর নির্ভরশীল বাবা-মায়ের থেকে স্বামীকে নিয়ে আলাদা ভাবে বসবাস করতে জো’র করলে বিবাহ বি’চ্ছে’দের মামলা করতে পারেন স্বামী।

১৪ পাতার রায়ে বিচারপতিদ্বয় বলেন, ‘পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি এবং রাজনীতির বিস্তর ফারাক রয়েছে। সেখানকার নিয়ম এখানে চলতে পারে না। বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখা ছেলের কর্তব্য বলেই ধরা হয়।’

তারা বলেন, ‘বিয়ের পর স্বামীর পরিবারের অ’বিচ্ছে’দ্য অংশ হয়ে ওঠেন স্ত্রী। যদি বিশেষ ক্ষেত্র না হয় তবে স্বামীকে অভিভাবক দের থেকে পৃথক করার জন্য মা’নসি’ক এবং শা’রী’রিক নি’র্যা’তন করলে বিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন স্বামী।’

রায়ে আরো বলা হয়, ‘অতীতে দেখা গিয়েছে স্বামীকে চাপ দিতে স্ত্রী আ’ক্রমণা’ত্নক সিদ্ধান্ত নেন। যদি কোনো ক্ষেত্রে তিনি মা’রা যান তবে আইনি সম’স্যায় জর্জরিত হতে হয় সেই ব্যক্তিকে। তার ক্যারিয়ার, পরিবার, সামাজিক সম্মান সব কিছু ছা’রখা’র হয়ে যায়। এ সব কিছুর কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত চাপের কাছে নতি করে নেন অনেকে। আর যাতে এই রকম ঘটনা না ঘটে তার জন্যই এই রায়ের বিধান করা হয়েছে।’

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হল ভারতের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগীয় অধিকরণ ও ভারতের সংবিধানের অধীনে সর্বোচ্চ আপিল আদালত এবং সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত। ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সাংবিধানিক পর্যালোচনার অধিকার প্রাপ্ত। ভারতের প্রধান বিচার পতি ও অপর ৩০ জন বিচার পতিকে নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গঠিত। এটির মৌলিক, আপিল ও উপদেষ্টা এক্তিয়ার রয়েছে।

৭১ বছর বয়সে বাবা হলেন তোতা মিয়া

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের কলাদিয়া গ্রামে মো. হাবিবুর রহমান তোতা মিয়া স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর হতে সময় নিয়েছেন ৬৯ বছর। এরপর বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে বাবা হয়েছেন ৭১ বছর বয়সে। ৭১ বছর বয়সেও বাবা হয়ে গ্রামের মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তোতা মিয়া।

জানা গেছে, স্বাবলম্বী, স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী হলেই কেবল বিয়ে করবেন মো. হাবিবুর রহমান ওরফে তোতা মিয়া সবসময় এমন কথাই বলতেন তিনি।

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সময় চলে গেছে ৬৯ বছর। এই বয়সে চাইলেই পাত্রী কোথায় পাবেন? সেই সাধও পূরণ করেছেন একই উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের ২৩ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন। দরিদ্র পরিবারের এক কন্যা সন্তানের জননী স্বামী পরিত্যক্তা আকলিমা খাতুন সম্মত হন তোতাকে বিয়ে করতে।

বিয়ের ২ বছরের মধ্যেই অর্থাৎ চলতি বছরের ১৮ জুলাই দম্পতি এক পুত্রসন্তান লাভ করেন। হাবিবুর রহমান তোতা সন্তানের নাম দিয়েছেন মো. আল রহমত উল্লাহ।

বর্তমানে ২০ একর জমির মালিক তোতা মিয়া। গ্রামের মানুষের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠা করেছেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। নিজ নামে সরকারি প্রাথমিক স্কুল, কওমি মাদ্রাসা, জামে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। এছাড়া একটি কলেজ ও বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলতে ২ একর জমিও দান করেছেন তোতা মিয়া।

মো. হাবিবুর রহমান তোতা মিয়া জানান, শৈশব থেকে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠতে আমাকে অনেক ধাপ পার হতে হয়েছে। কলা, আলু চাষাবাদ করে আমি আজ সম্পদের মালিক হয়েছি। মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এজন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

সফল হতে গেলে বয়স লাগে না। একমাত্র সন্তানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ওকে নিয়েই আমার এখন সবচেয়ে বেশি সময় কাটছে। ওই এখন আমার জীবনের নির্ভরযোগ্য বন্ধন।