আলোচিত সেই ‘টাইগারের’ জন্য কান্নার রোল

83

‘টাইগারের’ জন্য কান্নার রোল- ৩০ লাখ টাকা দাম হাঁকিয়ে সারা দেশে আলোচনায় আসা ৪২ মণ ওজনের সেই আলোচিত ষাঁড় গরু ‘টাইগারকে অবশেষে জ বা ই করে গোস্ত বিক্রি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে গোয়াল ঘরে পা পিছলে দুই পা ভেঙে যাওয়ায় এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে গরুটি। এতে বিমর্ষ হয়ে পড়েন টাইগারের মালিক মিনারুল ইসলাম ও স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা। ধরে রাখতে পারেননি চোখের পানি।

পরে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও কিছুটা লোকসান ঠেকাতে প্রিয় ষাঁড় গরুটি জ বা ই করতে বাধ্য হন মালিক মিনারুল ইসলাম। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে টাইগারের গোস্ত বিক্রি করা হয়। এ খবর শুনে মিনারুলের বাড়িতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। প্রিয় গরুটির জন্য স্বজন, গরু লালন পালনকারী শ্রমিক, উপস্থিত মানুষদের অনেকের চোখই ছিল অশ্রুসজল।

গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে সরেজমিনে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছোট গুয়াখড়া গ্রামের মিনারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টাইগারকে জ বা ই য়ের পর চা ম ড়া ছাড়ানোর কাজ করছেন কসাইরা। সেখানে ভিড় জমেছে হাজারো উৎসুক মানুষের।

তারা যেন শেষবারের মতো টাইগারকে দেখছেন। উপস্থিত সবারই মন ছিল বিষণ্ণ। খামারী মিনারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানার চোখ ছিল অশ্রুসজল। সর্বশেষ টাইগারের মোট ২৪ মণ গোস্ত বিক্রি হয়েছে। ৫শ’ টাকা কেজি হিসেবে গোস্ত কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর ক্রেতার সমাগম ঘটে সেখানে। গরুর মালিক এই গোস্ত বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে জানা যায়।

ষাঁড় গরুটির মালিক মিনারুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল চারটার দিকে গোয়াল ঘরে পা পিছলে পড়ে যায় টাইগার। এতে পিছন ও সামনের ডান পা দুটি ভেঙে যায়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে টাইগার। পরে স্বজন ও প্রতিবেশী সবার পরামর্শে জ বা ই করে গোস্ত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিনারুল ও তার স্ত্রী জাকিয়া বলেন, টাইগারকে সন্তানের মতো লালন পালন করতাম। তাকে এভাবে হারাতে হবে বুঝতে পারিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে। সব স্বপ্ন ভেঙে গেল। উল্লেখ্য, ৯ ফুট দৈর্ঘ্য আর সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরুটির ওজন হয়েছিল ৪২ মণ।

কালো আর সাদা রঙ মিশ্রিত সুঠাম স্বাস্থ্যর অধিকারী ষাঁড় গরুটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টাইগার’। কোরবানির আগে টাইগারের দাম ৩০ লাখ টাকা হেঁকে আলোচনায় আসেন খামারী মিনারুল ইসলাম। এ বছর ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঈদুল আযহার হাটে টাইগারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১৮ লাখ টাকা।

কাঙ্খিত দাম না পেয়ে বিক্রি না করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন খামারি মিনারুল। ইচ্ছা ছিল আরো এক বছর লালন পালনের পর আগামী ঈদুল আযহায় টাইগারকে বিক্রি করা। কিন্তু তার সে ইচ্ছা আর বাস্তবায়ন হলো না। অনেক টাকা লোকসান হলো বলে দাবি মিনারুলের।

সুত্র-কালের কণ্ঠ।