আটলান্টিকের তীরে নয়নাভিরাম দ্বীপে মসজিদ বানালেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা…

157

আটলান্টিকের বুকে মসজিদ বানালেন প্রবাসী- টেনেরিফ দ্বীপ আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত এবং স্পেনের অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি এলাকা। এবং প্রবাসী বাংলাদেশি দের প্রয়াসে এই নয়নাভিরাম দ্বীপে একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে।

দ্বীপ টিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি মসজিদ ও ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার। অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি দের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে টেনরিফ দ্বীপের ‘আস-সুন্নাহ মসজিদ’।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা ও নিজেদের মিলন কেন্দ্র হিসেবে এ কমিউনিটি সেন্টার ও মসজিদ ব্যবস্থা অনেকের সহ যোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেছে। আটলান্টিকের তীরে বাংলাদেশি মসজিদ নামে খ্যাত এটি।

স্পেনের এ টেনরিফ দ্বীপে বাংলাদেশি দের সংখ্যা ইউরোপের অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক কম। মাত্র ৬’শ বাংলাদেশি এ দ্বীপে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

স্পেনের একটি অন্যতম সুন্দর টেনরিফ দ্বীপ। দ্বীপটি ঘিরে আছে সমুদ্র আর উঁচু উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের মাঝে বয়ে চলেছে উঁচু-নিচু সুন্দর রাস্তা। দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের পাহাড়ি বনাঞ্চলের সঙ্গে সাদৃশ্য কলা বাগানে সজ্জিত। এ দ্বীপে পা দিলেই মনে হবে এ যেন বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা।

প্রবাসী বাংলাদেশি রা তাদের নিজেদের জন্য অনেকের সহযোগিতায় এ মসজিদ টি গড়ে তুলেছেন। যেখানে বাংলাদেশি রা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ও নামাজ আদায় করে থাকেন। পবিত্র জুমার নামাজ সহ ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা নামাজও আদায় করেন মুসল্লিরা।

আস-সুন্নাহ মসজিদের সেক্রেটারি জাকির হোসেনের ভাষায়, ‘মসজিদে আসলে মনে হয় যেন বাংলাদেশেই অবস্থান করছি। নামাজের সময় প্রবাসী বাংলাদেশি রা নামাজ পড়তে আসে।

উল্লেখ্য যে, স্পেনেরে সাজানো গোছানো সাগর-পাহাড় বেষ্টিত এ টেনরিফ দ্বীপে মোট জন সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার। যেখানে মাত্র ৬০০ প্রবাসী মুসলিম পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। এ পরিবার গুলোর মিলন স্থল হলো টেনরিফের আস-সুন্নাহ মসজিদ।

বাংলাদেশেই রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ‘ছোট’ মসজিদ !

পরিত্যক্ত মসজিদটিতে ওপরে মাত্র একটি গম্বুজ সহকারে আছে ছোট আকৃতির একটি দরজা। ভেতরে মাত্র তিন জন মানুষের নামাজ পড়ার জায়গা আছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এরচেয়ে ছোট মসজিদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়নি। তাই অনেকের মতে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মসজিদ।

বগুড়ার সান্তাহার থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে তারাপুর একটি গ্রাম। এই গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে এই মসজিদটি। লম্বায় এই মসজিদের উচ্চতা ১৫ ফুট আর প্রস্থ ৮ ফুট, দৈর্ঘ্য ৮ ফুট। এর দরজার উচ্চতা ৪ ফুট আর চওড়া দেড় ফুট। একজন মানুষ অনায়াসে সেখানে ঢুকতে বা বের হতে পারেন। একটি গুম্বুজ আছে, যেটা অনেকটাই উঁচুতে।

‘নাম হীন’ এই মসজিদ টির দেয়ালের পুরুত্ব দেড় ফুট। তবে যে ইটগুলো মসজিদের দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো অর্ধেক ভাঙা (এই ইটকে গ্রামে অধলা ইট বলে)। মসজিদের দরজায় দুটি রাজকীয় নিদের্শনার আদলে নির্মিত খিলান রয়েছে। এই মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বেশ কয়েকটি মত প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা সবচেয়ে প্রচলিত।

জানা যায়, সান্তাহারের ছাতিয়ানে ছিল রানি ভবানীর বাবার বাড়ি। আর সান্তাহারের আশেপাশে সহ তারাপুরও রানি ভবানীর বাবার রাজত্ব ছিল। তারই অংশ হিসেবে রানি ভবানীর আসা-যাওয়া ছিল এই গ্রামে। একজন মুসলমান মহিলা এই গ্রামে ছিলেন, যিনি পরহেজগার।

হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে ওই মহিলার নামাজ পড়ায় অনেক অসুবিধা হতো। রানি ভবানী এমন কথা জানতে পেরে তিনি নিজেই এই গ্রামে চলে আসেন আর সেই মহিলাকে যেন কেউ তার নামাজে অসুবিধা না করতে পারে সেজন্য পেয়াদাদের হুকুম দেন রাজকীয় নকশায় একটি মসজিদ তৈরি করে দেয়ার।

এলাকাবাসীরা জানায়, প্রায় দেড়শ’ বছর আগে এখানে নামাজ পড়া হতো। কে বা কারা, কেন এই মসজিদ নির্মাণ করেছেন এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে অনেক মতবিরোধ আছে। তারা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছেন এই মসজিদ এভাবে, একই অবস্থায় আছে। কেউ কেউ এখানে মানতও করে।