অস্ট্রেলিয়ায় কেনা বাড়িতে ওঠা হলো না বাংলাদেশি ‘শহিদুলের’ !

179

অস্ট্রেলিয়ায় এক বাংলাদেশি নি’হ’ত চু’রি হওয়া একটি গাড়ির ধাক্কায় অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে শহিদুল ইসলাম (৩৬) নামের এক বাংলাদেশি নি”হ”ত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুলের বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাটে। তিনি ব্রিসবেনের অ্যালবিয়োনে স্ত্রী ও চার বছরের ছেলে নিয়ে বসবাস করছিলেন।

জানা গেছে, চার চাকার গাড়ি চু’রি করে নিয়ে উল্টোপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় শহিদুল ইসলামের গাড়িতে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মা”রা যান তিনি। পরে নি”হ”তে”র স্বজনরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আহাজারিতে সেখানকার আকাশ ভারি হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দু’র্ঘ’ট’না’য় ঘটনাস্থলেই দুজন নি”হ”ত হয়েছেন। কুইন্সল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই সময় সেখানে হৃ’দ’য় বি’দা’র’ক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

চু’রি করা গাড়ির চালক বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে আছেন। আ’হ’ত হওয়ার কারণে ব্রিসবেন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে তাকে। আ’ট’ক হওয়ার সময় তার শরীর থেকেও ফি’ন’কি দিয়ে র”ক্ত ঝরছিল। জানা গেছে, নি”হ”ত বাংলাদেশি যুবকের নাম শহিদ ইসলাম।

কুইন্সল্যান্ড রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, চু’রি হওয়া গাড়িটি পুলিশ ধাওয়া করেনি। তবে গাড়িটি নজরদারিতে ছিল। গাড়িটি দ্রুতগতিতে রাস্তার উল্টো পাশ দিয়ে চলছিল। একপর্যায়ে চু’রি হওয়া গাড়িটি লেন পরিবর্তন করে উল্টোপথে চলতে থাকলে প্রচণ্ড বেগে শহিদুলের গাড়িকে মুখোমুখি ধা’ক্কা দেয়। এ ঘটনায় শহিদুলের কোনো দোষ নেই।

দুর্ঘটনায় চু’রি হওয়া গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিও ঘটনাস্থলেই মা”রা গেছেন। গু’রু’ত’র আ’হ’ত আরেকজনও পরে হাসপাতালে মা”রা গেছেন।

ব্রিসবেন থেকে শহিদুলের বন্ধু ফারুক রেজা টেলিফোনে বলেন, ২০০৮ সালে সেখানে যাওয়ার পর ব্রিসবেনে সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করেন শহিদুল। তার স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, পেশায় তিনি একজন নার্স।

তিনি আরো বলেন, পরশু রাতেই শহিদুল একটি বাড়ি কিনেছেন। সেখান থেকে ফিরে আসার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি তাদের গাড়িতে ধা’ক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মা”রা যান। ওই সময় পাশের লেন দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আসছিল। ৩০ সেকেন্ড পরেই অ্যাম্বুলেন্সের লোকজন সেখানে পৌঁছে তাকে মৃ”ত অবস্থায় পায়।

ফারুক রেজা বলেন, আগামি শনিবার ওই বাড়িতে ওঠার কথা ছিল শহিদুলের। আর আজ কথা ছিল, সেখানে ফ্রিজসহ কিছু জিনিস রেখে আসার। অ্যালবিয়ান এলাকায় তিনি ভাড়া থাকেন। সেখানেই ফিরে আসছিলেন। ব্রুস হাইওয়ে দিয়ে আসছিলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, দু’র্ঘ’ট’না’র ১০ কিলোমিটার আগে ওই গাড়ি থামিয়ে চেক করার চেষ্টা করেছিল পুলিশ। তবে গাড়িটি একশ ৪০ কিলোমিটার বেগে সেখান থেকে পালিয়ে আসে।

অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুসারে কোনো গাড়ি এত দ্রুত যেতে পারে না। সে কারণে পুলিশ ওই গাড়ি ধরতে পারেনি। পরে চু’রি করা গাড়ির চালক লেন পরিবর্তন করে উল্টোপথে চলতে থাকে। এ সময় দু’র্ঘ’ট’না’টি ঘটে।

তিনি আরো জানান, তিন ভাইবোনের মধ্যে শহিদুল সবার ছোট। যেহেতু এটা পুলিশ কেস। অনেক ঝামেলা আছে। লা”শে”র অবস্থা ভালো ছিল না। গাড়ি কে’টে ম”র”দে”হ বের করতে হয়েছে। এখন ম’র্গে আছে। আগামীকাল ম’য়’না’ত’দ’ন্ত হবে। অন্যান্য ফরমালিটি আছে।

সরকারি নিয়ম মেনে দা’ফ’ন হবে। শুক্রবার শনিবারের দিকে ম”র”দে”হ পাওয়া যেতে পারে। শনিবার কিংবা রবিবার দা”ফ”ন হতে পারে। তবে হাসপাতালের ডাক্তার চাইলে কিংবা আইনি প্রয়োজনে তারা আবার সেখান থেকে নমুনা নিতে পারে।