অসুস্থ বৃদ্ধকে কোলে তুলে রাস্তা পার করে দিলেন ওসি সাজু !

107

অসুস্থ বৃদ্ধকে কোলে তুলে রাস্তা পার করে দিলেন ওসি সাজু- দুইদিন আগেই এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পু্লিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে যেমন ভালো-খারাপ আছে, আমাদের পুলিশের মধ্যেও ভালো-খারাপ আছে। জনগণের সহায়তা নিয়ে খারাপ পুলিশ সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাই।’

পুলিশের মধ্যে যে ভালো মানুষ রয়েছে, সে কথার প্রমাণ আগেও দিয়েছেন শের আলী, কালাম, পারভেজ, শবনম, দিদারুল, জহিরুল, মোস্তাফিজের মতো অনেক পুলিশ সদস্য। এবার প্রমাণ দিলেন রাজধানীর কদমতলী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. সাজু মিয়া।

রাস্তার ধারে পথচারীর ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পু্লিশের (ডিএমপি) এই মানবতাবাদী কর্মকর্তা। রাস্তার অন্যপাশে দুঃস্থ এক বৃদ্ধকে দেখা যাচ্ছিল, অসুস্থতার কারণে যার শরীর কাঁপছিল। একটু খেয়াল করে তিনি দেখলেন, বৃদ্ধ লোকটি ঠিকমতো চোখেও দেখতে পাচ্ছেন না।

এই অবস্থায় লোকটি রাস্তা পার হতে গেলে ঘটতে পারে প্রাণহানি কিংবা ভয়াবহ কোনও দুর্ঘটনা। এই দৃশ্য নজরে আসতেই ছুটে যান ওসি সাজু। বৃদ্ধ লোকটিকে কোলে নিয়ে নিরাপদে রাস্তা পার করালেন আপন ছেলের মতো।

ওসি সাজু যে সময় দুঃস্থ বৃদ্ধকে দেখছিলেন, সে সময়ই তার চোখে ধরা পড়ে উদ্বেগ। তাই যখন তিনি গাড়ি থামাচ্ছিলেন, তখনই বোঝা যাচ্ছিল, বৃদ্ধের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই অবস্থায় এই পুলিশ কর্মকর্তা কী করেন, তা ক্যামেরাবন্দি করার চিন্তা মাথায় আসে রাস্তার এপাশে থাকা জনৈক ব্যক্তির। তিনি দুটি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার পর তা নজর কাড়ে অন্য অনেক পুলিশ ও গুণগ্রাহী মানুষজন। ফলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এই দৃশ্য।

এই প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী প্রমিজ সুপার স্টোরের কর্মচারীরা বলেন, অসহায় মানুষের সেবা করা হলেই নিরাকার খোদার সেবা করা হয়। ওসি সাহেব সেই কাজই করেছেন। এই ধরনের ছবি ভাইরাল হতে হতেই সবার মধ্যে মানবিকতাটাও ভাইরাল হতে থাকবে।

একটি কাজেই আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে বেশি খুশি হন !

আল্লাহর তায়ালার কাছে এক অফুরন্ত রহস্যের নাম তওবা। যে রহস্য একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন। কেননা তিনিই তওবা কবুল করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে বেশি খুশী হন তখনই হন। যখন বান্দা নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা লাভের আশায় তাঁর কাছে ফিরে আসে। কাতর-কণ্ঠে ফরিয়াদ জানায়, ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার কাতর-কণ্ঠে কবুল করুন।

প্রিয় নবী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমা লাভে তওবা ও ইসতেগফার প্রসঙ্গে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমার কাছে দোয়া করতে থাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে; ততক্ষণ আমি তোমার গোনাহ ক্ষমা করতে থাকব।

তোমার গোনাহের পরিমাণ যত বেশিই হোক কিংবা যত বড়ই হোক না কেন। এ গোনাহের পরিমাণ যদি আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। এ ব্যাপারে আমি কোনো পরোয়া করব না।

হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার কাছে পৃথিবীর সমান গোনাহসহ উপস্থিত হও আর আমার সঙ্গে কাউকে শিরক না কর, তাহলে আমিও ঠিক পৃথিবীর সমান ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে এগিয়ে যাব। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

অন্য হাদিসে রাসুল বলেছেন, ‘পাপের কাফ্ফারা হল অনুতাপ। আর অনুতাপই হচ্ছে তওবা।’ (মুসনাদে আহমাদ) তিনি আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি’- তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। এমনকি সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করার মত গোনাহ করলেও।’ (তিরমিজি)